প্রজন্ম২৪ ডেস্ক
ছবি: সংগৃহীত
বাংলা বছরের প্রথম প্রভাতে ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’ বের করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ। মঙ্গলবার সকাল ৯টায় জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে চারুকলার সামনে থেকে এ শোভাযাত্রা শুরু হয়।
উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলামের নেতৃত্বে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা এ আয়োজনে অংশ নিয়েছেন। সংস্কৃতি মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরীসহ সর্বস্তরের হাজারো মানুষও রয়েছেন এতে। শোভাযাত্রাটি রাজু ভাস্কর্য, দোয়েল চত্বর ও বাংলা একাডেমি হয়ে পুনরায় চারুকলায় এসে এ আয়োজন শেষ হবে।
শোভাযাত্রায় রয়েছে মোরগ, হাতি, পায়রা, দোতারা ও ঘোড়ার মোটিফ। এর মধ্যে মোরগ দিয়ে গণতান্ত্রিক উত্তরণের কথা তুলে ধরা হয়েছে।
চারুকলা অনুষদের ডিন আজহারুল ইসলাম শেখ সাংবাদিকদের বলেন, “বাংলাদেশে গত ১৮ বছর এক ফ্যাসিবাদী শাসনতন্ত্রের মধ্যে ছিল। সেখান থেকে একটা গণতান্ত্রিক নির্বাচনের মধ্য দিয়ে এদেশ আবার গণতন্ত্রের দিকে যাত্রা করেছে।
“তাই যে নতুন ভোর, নতুন দেশ, নতুন গণতন্ত্রের সূর্য উদিত হয়েছে, তাকে শুভকামনা জানাতেই আমাদের প্রতীকী মোরগ।
মোরগ যেমন আমাদেরকে প্রভাতে সূর্য উঠার আগে জাগিয়ে দিয়ে শুভ কামনা জানায়, আমরাও এ দেশে গণতন্ত্রের পুনরুত্থানকে শুভকামনা জানাই। আমরা চাই, এদেশে আমার ন্যায়বিচার ফিরে আসুক।”প্রতিবারই চারুকলা অনুষদ সমসাময়িক নানা বিষয় তুলে ধরে আয়োজন করে শোভাযাত্রা, যা নববর্ষ উদ্যাপনের অন্যতম অনুষঙ্গ। এবার নববর্ষ উদ্যাপন হচ্ছে ‘নববর্ষের ঐকতান, গণতন্ত্রের পুনরুত্থান’ প্রতিপাদ্যে।
শোভাযাত্রায় এবার দোতারার মোটিফ যুক্ত করার ব্যাখ্যায় অধ্যাপক আজহারুল বলেন, “আপনারা জানেন, সারা দেশে বাউলদের ওপর নানা হামলার ঘটনা ঘটেছে। আমরা তার প্রতিবাদ জানাতে চাই।
“একই সঙ্গে এদেশে আমাদের যে লোক গান আছে, তা হারিয়ে যেতে বসেছে। সেই সংস্কৃতিকে জাগাতে আমাদের এ আয়োজন।”
তাছাড়া শান্তির প্রতীক হিসেবে পায়রা, দেশীয় সংস্কৃতির নিদর্শন হিসেবে নারায়ণগঞ্জের লোকশিল্প জাদুঘরের কাঠের হাতি এবং কিশোরগঞ্জের টেপা আকৃতির ঘোড়া তুলে ধরছে চারুকলা অনুষদ।
কারুশিল্প বিভাগের শিক্ষক রাকিন নাওয়ার বলেন, “আমাদের আয়োজনে হাতির যে প্রতীকী মোটিফটা আছে, তা নারায়ণগঞ্জের লোকশিল্প জাদুঘরের কাঠের হাতির আদলে বানানো; এটি অ্যাকাডেমিক জায়গা থেকে নেওয়া। আর পায়রা তো শান্তির প্রতীক।
“আমাদের দেশে, বিশ্বে যেসব গন্ডগোল চলছে তা থেকে আমরা চাই সকলের মাঝে শান্তি প্রতিষ্ঠা হোক। আর কিশোরগঞ্জের বিখ্যাত টেপা আকৃতির ঘোড়াগুলো আমাদের দেশীয় সংস্কৃতির এক অন্যতম নিদর্শন। তাই আমাদের সংস্কৃতির প্রসার হোক, তার বার্তা তুলে ধরতে এ মোটিফ।”