প্রজন্ম 24.যশোর
নড়াইল সদর উপজেলার শিঙ্গাশোলপুর ইউনিয়নের বড়কুলা গ্রামে পিতা-পুত্রসহ হত্যাকান্ডের শিকার চারজনের দাফন মঙ্গলবার বিকেলে সম্পন্ন হয়েছে। হত্যাকান্ডে জড়িত অভিযোগে পুলিশ ও র্যাব এ পর্যন্ত ৬ জনকে আটক করেছে। জড়িত অন্যদের গ্রেফতার ও রহস্য উদ্ঘাটনের অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
নিহত খলিল শেখ ও ফেরদাউস হোসেনের স্বজনরা জানান, সোমবার ভোরে প্রতিপক্ষ সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান খায়রুজ্জামান খায়েরের লোকজন অতর্কিতভাবে আমাদের লোকজনের উপর দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হামলা করে নৃশংসভাবে কুপিয়ে আমাদের পক্ষের ৩জনকে হত্যা করে চলে যায়।
নিহত তাহাজ্জত শেখের স্ত্রী সুমী বেগম জানান, সোমবার ভোর রাতে তারাপুর গ্রাম থেকে আসা ও আমাদের গ্রামের প্রতিপক্ষরা মিলে কমপক্ষে ৫০-৫৫ জন লোক দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে আমাদের বাড়িতে প্রবেশ করে আমার শ্বশুর খলিল শেখ ও স্বামী তাহাজ্জতকে ঘর থেকে বের করে নিয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে উপর্যুপরি কুপিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করে ফেলে রেখে যায়। এছাড়া আমাদের প্রতিবেশি ও পক্ষের ফেরদাউসকেও একইভাবে কুপিয়ে হত্যা করে প্রতিপক্ষরা। আমরা এ হত্যাকান্ডের ন্যায় বিচার চাই।
এদিকে, তারাপুর গ্রামে পৌঁছে দেখা যায় গ্রামটি পুরুষশূন্য। নিহত ওসিকুর ফকিরের নারী স্বজনরা হাউমাউ করে কাঁদছেন। ওসিকুরের মা মহির নেসা জানান, খলিলের ছেলেরা ও তার ভাই হাবিলের ছেলেরা মারামারি ও সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের সঙ্গে জড়িত।তারা অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে বাড়িতে গিয়ে আমার ছেলে ওসিকুরসহ বাড়ির নারীদের প্রায়ই খুনজখম ও লুটপাটের হুমকি ধামকি দিতো। খলিল ও তার লোকজন আমার ছেলেকে বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে তাকে কুপিয়ে হত্যা করেছে। তারা হত্যাকান্ড ঘটানোর পরও বাড়িতে অবস্থান করছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। অথচ আমাদের পক্ষের নিরীহ লোকজন পুলিশের ভয়ে বাড়ি ছাড়া। আমাদের আত্মীয় স্বজনদের পর্যন্ত পুলিশ আটক করেছে। নড়াইল সদর থানার ভরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: ওলি মিয়া বলেন, নড়াইল সদর উপজেলার বড়কুলা গ্রামে সোমবার ভোরে বাবা-ছেলেসহ চারজনকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ছয়জনকে আটক করেছে পুলিশ ও র্যাব। হত্যাকান্ডের রহস্য দ্রুতই উদঘাটিত হবে বলে আশা করছি।