প্রজন্ম২৪ ডেস্ক
বাংলাদেশে তরুণদের স্বাস্থ্যসেবা, মানসিক সুস্থতা ও স্বাস্থ্যখাতে অর্থবহ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএমইউ) এবং ইউনিসেফ বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে ‘ন্যাশনাল ইয়াং হেলথ কনফারেন্স ২০২৬’ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (১০ মে) বিএমইউ সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালে আয়োজিত এ সম্মেলনে তরুণ জনগোষ্ঠী, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ, গবেষক, উন্নয়ন সহযোগী, শিক্ষাবিদ ও নীতিনির্ধারকেরা অংশ নেন।
সম্মেলনে বক্তারা বলেন, দ্রুত নগরায়ন, জলবায়ু ঝুঁকি, সামাজিক বৈষম্য এবং অসংক্রামক রোগের বাড়তি চাপ কিশোর ও তরুণদের স্বাস্থ্যগত অবস্থার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
একইসঙ্গে মানসম্মত যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্যসেবা, মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা, পুষ্টি, ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবায় প্রবেশাধিকার এবং সহিংসতা থেকে সুরক্ষার ক্ষেত্রেও নানা সীমাবদ্ধতা রয়ে গেছে।
বাংলাদেশে বর্তমানে মোট জনসংখ্যার প্রায় ২৯ শতাংশের বয়স ১০ থেকে ২৪ বছরের মধ্যে উল্লেখ করে সম্মেলনে বলা হয়, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) এবং ইউনিভার্সাল হেলথ কভারেজ (ইউএইচসি) অর্জনে তরুণদের সম্পৃক্ততা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এজন্য প্রমাণভিত্তিক নীতিনির্ধারণ, আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয় এবং স্বাস্থ্যব্যবস্থায় যুব অংশগ্রহণ জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
দিনব্যাপী সম্মেলনে প্লেনারি সেশন, কুইজ প্রতিযোগিতা, ওরাল ও পোস্টার উপস্থাপনা, বিতর্ক এবং প্যানেল আলোচনার আয়োজন করা হয়। আলোচনার মূল বিষয় ছিল যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য, পুষ্টি, অসংক্রামক রোগ ও জীবনধারা পরিবর্তন, মানসিক স্বাস্থ্য, তরুণদের প্রতি সহিংসতা, প্রান্তিক জনগোষ্ঠী এবং জলবায়ু পরিবর্তন।
বক্তারা তরুণবান্ধব স্বাস্থ্যসেবা, স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন, সহিংসতা প্রতিরোধ এবং জলবায়ু সহনশীল স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে তরুণদের সক্রিয় ভূমিকার ওপর গুরুত্ব দেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিএমইউ’র ডিপার্টমেন্ট অব পাবলিক হেলথ অ্যান্ড ইনফরমেটিক্সের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মো. আতিকুল হক। উপস্থিত ছিলেন বিএমইউ’র প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (একাডেমিক) অধ্যাপক ডা. মো. নজরুল ইসলাম, প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. মো. আবুল কালাম আজাদ, প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (গবেষণা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. মো. মুজিবুর রহমান হাওলাদার, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. নাহরীন আখতার, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডা. আশরাফী আহমদ, এনডিসি, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল, সমাজসেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. শাহ মোহাম্মদ মাহবুব এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মাসুম আহমেদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইউনিসেফ বাংলাদেশের চিফ অব হেলথ ডা. মালালাই আহমাদজাই।
সম্মেলনে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, জাতিসংঘ সংস্থা, বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা, যুব সংগঠন ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের পাশাপাশি ২০০-এর বেশি তরুণ অংশগ্রহণ করেন। প্রমাণভিত্তিক উদ্যোগ, উদ্ভাবন এবং অর্থবহ যুব অংশগ্রহণের মাধ্যমে কিশোর ও তরুণদের স্বাস্থ্য উন্নয়নই ছিল এ আয়োজনের মূল লক্ষ্য।
সমাপনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ হোসেন জিল্লুর রহমান। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ডা. ফারজানা ইসলাম এবং বিএমইউ’র সহযোগী অধ্যাপক ডা. মো. শহিদুল হক।