এস এম কবির
এস এম কবির
ছবি:
নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণার কোলাহল শেষ। মাইক থেমেছে, ব্যানার-ফেস্টুন স্থির, পথসভা আর গণসংযোগের ব্যস্ততা আপাতত বিরতি নিয়েছে। এখন অপেক্ষা—ভোটের দিনের। এই মুহূর্তে গোটা দেশবাসীর একটাই প্রত্যাশা, একটি সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন।
গত কয়েক সপ্তাহ ধরে দেশের প্রতিটি শহর থেকে গ্রাম—সবখানেই ছিল নির্বাচনের উন্মাদনা। প্রার্থীরা নিজেদের প্রতিশ্রুতি তুলে ধরেছেন, উন্নয়নের ফিরিস্তি দিয়েছেন, ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখিয়েছেন। ভোটারদের দরজায় দরজায় গিয়ে চেয়েছেন সমর্থন। রাজনৈতিক অঙ্গন ছিল সরব, কখনো উত্তপ্ত, কখনো আশাবাদী। তবে সবকিছুর পর এখন মূল প্রশ্ন—ভোট কতটা শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য হবে ?
গণতন্ত্রের মূল শক্তি হলো জনগণের ভোটাধিকার। সেই অধিকার প্রয়োগের দিনটিকে কেন্দ্র করেই মানুষের এত আগ্রহ, এত প্রত্যাশা। একজন সাধারণ ভোটার চান নিরাপদ পরিবেশে, কোনো প্রকার চাপ বা ভয়ভীতি ছাড়া নিজের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে। তরুণ ভোটারদের মধ্যে আছে নতুন উদ্দীপনা; প্রবীণদের মনে অভিজ্ঞতার আলোকে শঙ্কা ও আশা—দুটোই। কিন্তু সবার কণ্ঠে একটাই সুর—ভোট যেন সুষ্ঠু চাইই চাই ।
নির্বাচন কমিশন, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর এখন বাড়তি দায়িত্ব। ভোটকেন্দ্রগুলোতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা, স্বচ্ছ ব্যবস্থাপনা এবং ভোট গণনায় নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করাই হবে বড় চ্যালেঞ্জ। একই সঙ্গে প্রার্থী ও রাজনৈতিক দলগুলোর কাছ থেকেও প্রত্যাশা—তারা যেন ফলাফল যাই হোক, তা মেনে নিয়ে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখেন।
আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও একটি দেশের নির্বাচন তার গণতান্ত্রিক অবস্থানের প্রতিচ্ছবি হিসেবে বিবেচিত হয়। তাই একটি অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন শুধু অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতার জন্যই নয়, বৈশ্বিক ভাবমূর্তির জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।
প্রচার-প্রচারণা শেষ মানেই প্রতিযোগিতার শেষ নয়; বরং এটি গণতন্ত্রের পরীক্ষার শুরু। ভোটের দিনটি যেন উৎসবের আমেজে, নিরাপদ পরিবেশে সম্পন্ন হয়—এটাই এখন দেশবাসীর প্রত্যাশা। জনগণের রায়ই হবে চূড়ান্ত কথা। সেই রায় যেন নির্ভয়ে, নির্বিঘ্নে এবং নিরপেক্ষভাবে প্রকাশ পায়—এই আশায় অপেক্ষায় আমরা গোটা দেশবাসী |