রোকসানা আক্তার পিংকি
, রাঙ্গামাটি
রাঙ্গামাটির প্রতিটি পাড়া এখন বিভিন্ন সবজির সংমিশ্রণে তৈরি এই পাঁজন রান্নার সুবাসে ভরে উঠেছে। সোমবার (১৩ই এপ্রিল) 'মূল বিজু' পালিত হচ্ছে। মূল বিজুর এই দিনের প্রধান আকর্ষণ হলো ঐতিহ্যবাহী 'পাঁজন'। ঐতিহ্য অনুসারে, পাঞ্জনের বিশেষত্ব হলো এতে অন্তত ৩২ ধরনের উপাদানের বৈচিত্র্য থাকে।
সোমবার (১৩ই এপ্রিল) ভোর থেকেই পাহাড়ি গ্রামগুলিতে উৎসবের আমেজ শুরু হয়ে যায়। ছোট-বড় নির্বিশেষে সবাই একসঙ্গে বসে পাঁজনের সবজি কাটেন। পাহাড় থেকে সংগ্রহ করা বিভিন্ন ধরনের সবজির মধ্যে 'পাঁজন' রান্নায় প্রধান সবজি হিসেবে কাঁচা কাঁঠাল ও তারা নামক সবজি ব্যবহৃত হয় এবং এর সাথে কাচকলা, সজন মিষ্টি কুমড়ো, শিম, আলু, বিট, সামিফুল, কলারমোচা এবং এমনকি বিভিন্ন ধরনের শুকনো এই রান্নায় যোগ করা হয়।
পার্বত্য এলাকার মানুষের বিশ্বাস, বছরের শেষ দিনে এই পাঁজন খেলে সারা বছর শারীরিক সুস্থতা বজায় থাকে এবং নানা রোগ-ব্যাধি থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।
বিজু, সাংগ্রাই, বৈসু, বিষু, চাংক্রান, চাংলান, পাতা, বিহু উদযাপন কমিটির আহবায়ক প্রকৃতি রঞ্জন চাকমা বলেন, পাহাড়ের অধিবাসীদের সবচেয়ে বড় এই সামাজিক উৎসব শুরু। আজ মূল বিজু পালিত হচ্ছে এবং আগামীকাল মঙ্গলবার গোজ্জ্যাপোজ্জ্যা দিন পালিত হবে।
তিনি বলেন যে, এই উৎসবের আনন্দ পাহাড়ের প্রতিটি ঘরে ঘরে ছড়িয়ে পড়বে এবং আমরা সবাই আগামী দিনগুলো শান্তি ও সম্প্রীতিতে একসঙ্গে কাটাতে পারব।