রোকসানা আক্তার পিংকি
, রাঙ্গামাটি
পার্বত্য অঞ্চলের পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর ৩ দিনব্যাপী সামাজিক উৎসব শুরু হয়েছে। পুরনো বছরের সমাপ্তি ও নতুন বছরের সূচনা উপলক্ষে সকালে পার্বত্য অঞ্চলের বিভিন্ন এলাকার মানুষ দেবী গঙ্গাকে ফুল অর্পণের মাধ্যমে এই উৎসবের সূচনা হয়। এটি চট্টগ্রাম পার্বত্য অঞ্চলে বসবাসকারী ১৩টি ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর বৃহত্তম ধর্মীয় ও সামাজিক উৎসব।
যুগ যুগ ধরে নিজেদের ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরে বিভিন্ন রকমের খাবার, খেলা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করে এই উৎসব পালন করা হয়। উৎসবটি পাহাড়ের এক এক সম্প্রদায়ের কাছে আলাদা আলাদা নামে পরিচিত, যেমন- বিজু, বিহু, বিসু, বৈসু, চাংক্রান, সাংগ্রাই এবং সাংলান।
রবিবার (১২ এপ্রিল) ঐতিহবাহী পিনন-হাদির পোশাকে তরুণী এবং ধুতি-পাঞ্জাবি পরে ভোরে সূর্যোদয়ের সাথে সাথে ফুলবিজু উপলক্ষে শহরের রাজবন বিহার ঘাট, গর্জনতলী মধ্যদ্বীপ, কেরানি পাহাড় সহ বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন সংগঠনের উদ্যোগে এবং ব্যক্তিগত উদ্যোগে পানিতে ফুল ভাসানো হয়। পানিতে ফুল ভাসিয়ে নিজ পরিবার এবং দেশ তথা সমগ্র জীবের মুক্তির জন্য গঙ্গা দেবীর নিকট প্রার্থনা করা হয়।
রাঙ্গামাটি বৈসাবি উদযাপন কমিটির সদস্য সচিব ইন্টু মনি তালুকদার বলেন, বৈসাবি উৎসব উপলক্ষে সকালে রাজবাড়ী ঘাটে কাপ্তাই হ্রদে গঙ্গাদেবীর উদ্দেশ্যে ফুল ভাসিয়ে উৎসবের সুচনা করেছি। পুরাতন বছরের গ্লানি ভুলে ভবিষ্যতে সুন্দর জীবনের প্রত্যাশায় আমরা সকলে প্রার্থনা করেছি। আগামী বছরগুলোতে যেন বিশ্বের সকল মানুষ ভালো থাকে এবং পাহাড়ে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির সেতুবন্ধন সুদৃঢ় থাকে এটাই সকলের প্রত্যাশা।
আগামীকাল ১৩ এপ্রিল মুল বিজু পালিত হবে। ঐতিহ্যবাহী পাঁজন রান্না করে অতিথি আপ্পায়নের মধ্যদিয়ে শুরু হবে মুল বিজুর আনুষ্ঠানিকতা। আগামী ১৪ এপ্রিল পালিত হবে গোজ্যেপোজ্যে।