প্রজন্ম২৪
, শেকৃবি
জিয়া পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ডা. মো. আব্দুল কুদ্দুসের স্মরণসভায় বক্তব্য দেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর
ছবি: আলমগীর রেজা
সংবিধান সংস্কার পরিষদ এবং আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (পিআর) পদ্ধতিতে সংসদের উচ্চকক্ষ গঠনের প্রস্তাবে বিএনপি কখনোই একমত হয়নি বলে জানিয়েছেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
শনিবার (২ মে) জিয়া পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ডা. মো. আব্দুল কুদ্দুসের স্মরণসভায় তিনি এ তথ্য জানান। রাজধানীর শেরে-বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (শেকৃবি) অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠানটি হ
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল বলেন, ‘জুলাই সনদের প্রতিটি ধাপে আমরা অংশ নিয়েছি। কিছু বিষয়ে ‘নোট অব ডিসেন্ট’ দিয়েছি, তবুও স্বাক্ষর করেছি। কিন্তু এখন বলা হচ্ছে সবই বাস্তবায়ন করতে হবে, এটা ঠিক নয়। উচ্চকক্ষে পিআর পদ্ধতি এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদ- এই দুই বিষয়েই আমরা একমত হইনি। সব সিদ্ধান্ত সংসদের মাধ্যমেই হওয়া উচিত।’
শনিবার (২ মে) রাজধানীর শের-ই-বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় অডিটোরিয়ামে জিয়া পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ডা. মো. আব্দুল কুদ্দুসের স্মরণসভায় এ কথা বলেন তিনি।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আপনারা জানেন জুলাই সনদ, সংবিধান সংশোধন এগুলো নিয়ে তর্ক-বিতর্ক হচ্ছে। তর্ক-বিতর্ক অবশ্যই ভালো কিন্তু অপপ্রচার, মিথ্যা এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে এগুলো ব্যবহার করার চেষ্টা এটা কখনোই ভালো হতে পারে না। তিনি বলেন, সবচেয়ে বড় কথা—জুলাই সনদের প্রত্যেকটা জায়গায় আমরা ছিলাম। আমাদের দল থেকে যে দুইজন স্বাক্ষর করেছেন, আমি আর সালাউদ্দিন সাহেব সব স্বাক্ষর করলাম। তার আগে জুলাই ঘোষণা, সেটাও আমরা একসঙ্গে ড্রাফট দিয়েছি।
তিনি আরও বলেন, আমরা তো পরিষ্কার করে বলেছিলাম—আলোচনার মধ্যে যেগুলোতে আমরা একমত হব না সেগুলোতে আমরা নোট অব ডিসেন্ট দেব। জুলাই সনদের মধ্যে তা আছে। তখনই কিন্তু আমরা প্রেস কনফারেন্স করে বলেছিলাম এ বিষয়ে।
স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, এখন অবলীলায় বলছে, সবটাই করতে হবে। সে সময়ে সেখানে কতগুলো বিষয় থাকলো যেটা আমরা একমত হইনি। কিন্তু তারা বলে দিল যে এগুলো হবে আর এই নির্বাচনের পরেই যারা নির্বাচিত হবেন, তারা আপনার সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করবেন। আমরা এটার সঙ্গে একমত একেবারেই হয়নি। কারণ এটার কোনো নজির নেই। আমরা বলেছিলাম নির্বাচন হবে, নির্বাচিত সদস্যরা সংসদ গঠন করবে, তারাই সিদ্ধান্ত নেবে। যা যা পরিবর্তন আনার বা সংশোধন করার প্রয়োজন হলে তারাই সেটা করবে। তিনি জানান, সেই সব বিষয় নিয়ে এখন একেবারেই মিথ্যা অভিযোগ তোলা হচ্ছে এবং রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করা হচ্ছে। উচ্চকক্ষে পিআরে আমরা একমত হইনি। সংবিধান সংস্কার পরিষদের বিষয়েও আমরা একমত হইনি। সবকিছু সংসদের করতে হবে।
বিএনপির মহাসচিব বলেন, সোশ্যাল মিডিয়ায় বলা হচ্ছে বিএনপি সংস্কার মানে না। বিএনপি তো হচ্ছে সংস্কারের জনক, সংস্কারের নামে জামায়াতের নেতৃত্বে ১১ দল বর্তমানে যে আন্দোলন করছে তার উদ্দেশ্য হচ্ছে দেশকে অস্থিতিশীল করা।
দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে সকলকে ঐক্যবদ্ধ থেকে কাজ করার আহ্বানও জানান তিনি।
এ সময় জিয়া পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল লতিফের সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের মহাসচিব এমতাজ হোসেন, জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব আব্দুল্লাহেল মাসুদ, যুগ্ম মহাসচিব ও মহানগর সভাপতি আবুল কালাম আজাদ, সাধারণ সম্পাদক শফিকুল হাসান রতন, কৃষিবিদ মনোয়ারুল ইসলাম এনাম ও শেরেবাংলা থানার যুগ্ম সম্পাদক আলমগীর রেজা সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
সভাপতির বক্তব্যে ড. মো. আবদুল লতিফ বলেন, অধ্যাপক ডা. আব্দুল কুদ্দুস শুধু একজন সংগঠকই নন, তিনি ছিলেন একজন আলোকিত মানুষ, যিনি নীরবে-নিভৃতে মানুষের কল্যাণে কাজ করে গেছেন। তিনি তার স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান এবং তার আদর্শ ধারণ করে এগিয়ে যাওয়ার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন জিয়া পরিষদের নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিত্বরা। বক্তারা মরহুমের কর্মজীবনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন এবং তার সততা, দেশপ্রেম ও মানবিক মূল্যবোধের প্রশংসা করেন।
স্মরণসভা শেষে দোয়া ও মোনাজাতে মরহুম অধ্যাপক ডা. মো. আব্দুল কুদ্দুসের রুহের মাগফিরাত কামনা করা হয় এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানানো হয়। অনুষ্ঠানের পরিবেশ ছিল আবেগঘন ও শোকাবহ, যেখানে উপস্থিত সবাই মরহুমের স্মৃতির প্রতি নীরব শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।