ঢাকা, বাংলাদেশ || সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬
prajanmo24 prajanmo24 prajanmo24 prajanmo24 prajanmo24 prajanmo24
Ad for sale 870 x 80 Position (1)
Position (1)
Ad for sale 870 x 100 Position (1)
Position (1)

যশোর শিক্ষাবোর্ডের প্রায় ৭ কোটি টাকার চেক জালিয়াতি মামলায় ১১আসামির বিরুদ্ধে চার্জগঠন

প্রজন্ম২৪ ডেস্ক

, যশোর

প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল,২০২৬, ০৯:০২ পিএম
যশোর শিক্ষাবোর্ডের প্রায় ৭ কোটি টাকার চেক জালিয়াতি মামলায় ১১আসামির বিরুদ্ধে চার্জগঠন

যশোর শিক্ষাবোর্ডের ৩৮টি চেক জালিয়াতি করে ৬ কোটি সাড়ে ৭৪ লাখ টাকা আত্মসাতের মামলায় ১১জনকে আসামি হিসেবে আমলে নিয়ে আনুষ্ঠানিক বিচার প্রক্রিয়া শুরু করেছে আদালত।  বৃহষ্পতিবার (২ এপ্রিল) চার্জ গঠনের মাধ্যমে এ বিচার প্রক্রিয়া শুরু করেছেন স্পেশাল জজ আদালতের বিচারক এস এম নূরুল ইসলাম। দুদকের আইনজীবী সিরাজঙল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
আসামিরা হলেন, শিক্ষাবোর্ডের বরখাস্তকৃত হিসাব সহকারী আব্দুস সালাম, ঠিকাদার ভেনাস প্রিন্টিং অ্যান্ড প্যাকেজিংয়ের প্রোপাইটার শরিফুল ইসলাম, উপশহর জামরুলতলা রোড এলাকার বাসিন্দা আশরাফুল আলম, পোস্ট অফিসপাড়ার গাজী নূর ইসলাম, বড়বাজার জামে মসজিদ লেনের প্রত্যাশা প্রিন্টিং প্রেসের প্রোপাইটার রুপালী খাতুন, উপশহর ই-ব্লকের সহিদুল ইসলাম, রকিব মোস্তফা, শিক্ষা বোর্ডের সহকারী মূল্যায়ন অফিসার আবুল কালাম আজাদ, নিম্নমান সহকারী জুলফিকার আলী, চেক ডেসপাসকারী মিজানুর রহমান ও কবির হোসেন।
আসামিদের মধ্যে ঠিকাদার ভেনাস প্রিন্টিং অ্যান্ড প্যাকেজিংয়ের প্রোপাইটার শরিফুল ইসলাম পলাতক রয়েছেন। অন্যরা বিভিন্ন আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনে রয়েছেন।
মামলার নথিপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, যশোর শিক্ষা বোর্ডের প্রায় ২৫ টি হিসাব সোনালী ব্যাংক লিমিটেডের যশোর বিআইএসই শাখায় পরিচালিত হয়। তার মধ্যে একটি হিসাবের সিগনেটরি বোর্ডের সচিব ও চেয়ারম্যান। ২০১৭-১৮ অর্থবছর থেকে ২০২১-২০২২ অর্থবছর পর্যন্ত ওই হিসাব থেকে ৩৮ টি চেক জালিয়াতি করে বিভিন্ন ব্যাংকে জমা দিয়ে ক্লিয়ারিংয়ের মাধ্যমে ২৩ লাখ ৫৪ হাজার ৭০৬ টাকার স্থলে সর্বমোট ৬ কোটি ৯৭ লাখ ৮৫ হাজার ৩৯৭ টাকা উত্তোলন করা হয়েছে।
৩৮টি চেকের মধ্যে টিএ/ডিএ বিল বাবদ আসামি মো. আব্দুস সালামের নামে ইস্যুকৃত চেক ৩টি, সাধারণ বিল বাবদ সহকারী সচিব আশরাফুল ইসলামের নামে ইস্যুকৃত চেক ১টি, মিম প্রিন্টিং প্রেসের নামে ইস্যুকৃত চেক ৩ টি, মেসার্স খাজা প্রিন্টিং প্রেসের নামে ইস্যুকৃত চেক ২টি, নিহার প্রিন্টিং প্রেসের নামে ইস্যুকৃত চেক ১টি, সবুজ প্রিন্টিং প্রেসের নামে ইস্যুকৃত চেক ১ টি, শরিফ প্রিন্টিং অ্যান্ড প্যাকেজিংয়ের নামে ইস্যুকৃত চেক ১টি, সানিয়া ইলেক্ট্রনিক্সের নামে ইস্যুকৃত চেক ১টি, নুর এন্টারপ্রাইজের নামে ইস্যুকৃত চেক ৮টি, প্রত্যাশা প্রিন্টিং প্রেসের নামে ইস্যুকৃত চেক ৩টি, শাহী লাল স্টোরের নামে ইস্যুকৃত চেক ১টি, দেশ প্রিন্টার্স নামে ইস্যুকৃত চেক ১ টি, সেকশন অফিসার মো. আবুল কালাম আজাদের নামে ইস্যুকৃত চেক ১টি, অর্পানেটের নামে ইস্যুকৃত চেক ১টি, আয়কর কর্তন বাবদ ইস্যুকৃত চেক ৪টি ও ভ্যাট কাটা বাবদ ইস্যুকৃত চেক ৬টি।
এর মধ্যে ১৬ টি চেক আসামি মো.আব্দুস সালাম নিজে রিসিভ করেন। অবশিষ্ট ২২ টি চেক শেখ শরিফুল ইসলাম ডেসপাস রাইডার মো. জুলফিকার আলী,মো. মিজানুর রহমান ও মো. কবির হোসেনের সহায়তায় নিজে গ্রহণ করেন। এরপর ওইসব চেকে টাকার পরিমাণ ঘষামাজার মাধ্যমে অবমোচন করে পরিমাণ বাড়িয়ে লিখে প্রিন্ট করে উত্তোলন করে। যার মাধ্যমে আসামিরা পারস্পারিক সহায়তায় ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে মূল টাকার অতিরিক্ত ৬ কোটি ৭৪ লাখ ৪৩ হাজার ৩ টাকা আত্মসাত করে। এজন্য দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে আসামিদের বিরুদ্ধে এ চার্জশিট দাখিল করে দুদক।
চার্জশিটে আরো উল্লেখ করা হয়, তদন্তকালে চেক সিগনেটরি শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর মোহাম্মদ আব্দুল আলীম, অধ্যাপক ড. মোল্লা আমীর হোসেন কর্মরত ছিলেন। উক্ত সময়ে ড. মোল্লা আমীর হোসেনসহ তিনজন সচিব কর্মরত ছিলেন।
ড. মোল্লা আমীর হোসেন ও সচিব প্রফেসর এ এম এইচ আলী আর রেজা ও প্রফেসর মো.তবিবার রহমানের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাদের অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়।
দুদকের দেয়া চার্জশিটের উপর আজ শুনানি শেষে চার্জগঠন করেন স্পেশাল জজ আদালতের বিচারক।
দুদকের আইনজীবী সিরাজুল ইসলাম জানান, ১১ আসামির মধ্যে ১০ জনের উপস্থিতিতে বিচারক চার্জগঠন করেন। একইসাথে পলাতক আসামি ঠিকাদার ভেনাস প্রিন্টিং অ্যান্ড প্যাকেজিংয়ের প্রোপাইটার শরিফুল ইসলামের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দেন।
এর মাধ্যমে এ মামলাটির আনুষ্ঠানিক বিচার প্রক্রিয়া শুরু হলো। আদালত পর্যায়ক্রমে সাক্ষ্য গ্রহণের মাধ্যমে বিচার প্রক্রিয়া এগিয়ে নেবেন বলে জানান তিনি।

ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

Ad for sale 270 x 200 Position (2)
Position (2)