প্রজন্ম24 (মণিরামপুর)
যশোরের মণিরামপুরের বহুল আলোচিত হুন্ডি ব্যবসায়ী প্রদীপ বিশ্বাসকে মধ্যরাতে আটক করার পর যশোরে এনে রহস্যজনকভাবে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
প্রদীপ বিশ্বাস মণিরামপুর উপজেলার কুলটিয়া গ্রামের পঞ্চরাম বিশ্বাসের ছেলে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তিনি দীর্ঘদিন ধরে মানি লন্ডারিং ও অবৈধ হুন্ডি ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। মশিহাটি বাজারে শ্রী দুর্গা মানি চেঞ্জার বেনাপোলে দ্বীপ মানি চেঞ্জার নামে তার দুটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। পাশাপাশি ভারতের ভূখণ্ডেও তার আরেকটি মানি চেঞ্জিং ব্যবসা পরিচালনার তথ্য রয়েছে মানুষের মুখে মুখে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, সোমবার ভোর রাতে সাদা পোশাকধারী আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা প্রকাশ্যে প্রদীপ বিশ্বাসকে আটক করে নিয়ে যান। এসময় ডিবি পরিচয় দেন কেউ কেউ। কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে দুপরের পর তিনি মুক্ত অবস্থায় এলাকায় ফিরে যান । বিষয়টি নিয়ে মণিরামপুর জুড়ে ধোঁয়াশা সৃষ্টি হয়েছে কারা তাকে আটক করল, কোন সংস্থার পরিচয়ে নিয়ে গেল, আর কেনই বা ছেড়ে দেওয়া হলো, এসব প্রশ্নের কোনো স্পষ্ট জবাব মিলছে না।
এদিকে যশোর জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) এবং মণিরামপুর থানা দুই পক্ষই এই আটকের ঘটনায় নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা অস্বীকার করেছে। যশোর জেলা ডিবি পুলিশের ইনচার্জ মোহাম্মদ আলী বলেন, ডিবির কোনো টিম প্রদীপ বিশ্বাস নামে কাউকে আটক করেনি। এ বিষয়ে আমাদের কাছে কোনো তথ্য নেই। মণিরামপুর থানার অফিসার ইনচার্জ রজিউল্লাহও একই দাবি করে বলেন, “থানা পুলিশ এমন কাউকে আটক করেনি, বিষয়টি আমাদের জানা নেই।
স্থানীয়দের অভিযোগ, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় প্রদীপ বিশ্বাস ক্ষমতাসীন নেতাদের অন্যতম ডোনার ছিলেন। প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় থেকে দীর্ঘদিন ধরে তিনি নির্বিঘ্নে হুন্ডি ব্যবসা চালিয়ে গেছেন। সরকার পতনের পর কিছুদিন আত্মগোপনে থাকলেও বর্তমানে তিনি বিএনপির একটি অংশের আশ্রয়ে সক্রিয় হয়ে উঠেছেন। সূত্রটি আরও জানায় , তিনি বর্তমানে মণিরামপুরের একজন প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনী মাঠে সক্রিয়ভাবে কাজ করছেন ।ওই প্রার্থীর অন্যতম অর্থনৈতিক সহায়ক হিসেবেও পরিচিত তিনি । স্থানীয় একাধিক সূত্র দাবি করছে, প্রভাবশালী একটি পক্ষই তাকে আটকের পর ছাড়িয়ে এনেছে। তবে কার নির্দেশে এবং কোন প্রক্রিয়ায় তাকে ছেড়ে দেওয়া হলো এ প্রশ্নের জবাব মিলছে না কোথাও। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নীরবতা এবং পরস্পরবিরোধী বক্তব্যে গোটা ঘটনাটি আরও রহস্যঘেরা হয়ে উঠেছে। এ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও কৌতূহল বিরাজ করছে।