প্রজন্ম২৪
, বেনাপোল
উলাশীর জিয়ার খাল পরিদর্শনে পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ
ছবি: দেবুল কুমার দাস
যশোরের শার্শা উপজেলার উলাশি ইউনিয়নের ঐতিহাসিক জিয়ার খাল পরিদর্শন করেছেন পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ। শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) বেলা ১১টার দিকে তিনি খালটি সরেজমিনে পরিদর্শন করেন এবং বর্তমান অবস্থা, পানি প্রবাহ, দখল ও ভরাট পরিস্থিতিসহ সার্বিক বিষয় পর্যবেক্ষণ করেন।
পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে খালটির পানি প্রবাহ স্বাভাবিক রাখা, দ্রুত পুনঃখনন কার্যক্রম গ্রহণ, অবৈধ দখলমুক্ত করা এবং খালের দুই পাড়ে সৌন্দর্যবর্ধনসহ টেকসই উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করেন। তিনি বলেন, খালটির ঐতিহাসিক গুরুত্ব ও কৃষিতে এর অবদান বিবেচনায় নিয়ে এটিকে পুনরুজ্জীবিত করা ছিলো সময়ের দাবী।
এ সময় স্থানীয় রাজনৈতিক কর্মসূচি এবং অবকাঠামোগত প্রস্তুতির বিষয়টিও পর্যালোচনা করা হয়। শার্শা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলহাজ নুরুজ্জামান লিটন জানান, আগামী ২৭ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য আগমনকে কেন্দ্র করে জিয়ার খালসহ আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো পরিদর্শন করা হচ্ছে। তিনি বলেন, খালটির উন্নয়ন কার্যক্রম দ্রুত বাস্তবায়নের পাশাপাশি পরিবেশগত ভারসাম্য বজায় রেখে এলাকাকে আরও নান্দনিক ও আকর্ষণীয় করে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।
পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন যশোরের জেলা প্রশাসক আশেক হাসান, জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট সাবিরুল হক সাবু, সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খোকন, শার্শা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নুরুজ্জামান লিটন, শ্রম বিষয়ক সম্পাদক শহীদ আলী এবং উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মোস্তাফিজ-জোহা সেলিমসহ বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। এছাড়াও স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনের কর্মকর্তা ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য আগমনকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যে একাধিক উচ্চপর্যায়ের পরিদর্শন অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত ১১ এপ্রিল বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত খালটি সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। এর আগে ২ এপ্রিল যশোরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসানও খালটির বর্তমান অবস্থা পরিদর্শন করেন।
জানা যায়, ১৯৭৬ সালের ১ নভেম্বর তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নিজ হাতে কোদাল চালিয়ে এলাকাবাসীর স্বেচ্ছাশ্রমে খালটির খনন কর্মসূচী গ্রহণ করেছিলেন। এটি ছিলো দেশের প্রথম রাষ্ট্রীয় পাইলট খাল খনন প্রকল্পের সূচনা। প্রায় ৪ কিলোমিটার দীর্ঘ এই খালটি মাত্র ৬ মাসে সম্পন্ন হয় এবং ১৯৭৭ সালের ৩০ এপ্রিল আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন তিনি।
এই খাল খননের ফলে উত্তর শার্শা অঞ্চলের পাঁচটি বড় বিলের পানি নিষ্কাশন সহজ হয় এবং প্রায় ২২ হাজার একর জমি চাষাবাদের আওতায় আসে। ফলে এলাকায় কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি পায় এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব পড়ে।
তবে কালের পরিক্রমায় যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে খালটি ভরাট হয়ে পড়ে। ফলে শুষ্ক মৌসুমে পানিশূন্যতা এবং বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতার সমস্যায় দীর্ঘদিন ধরে ভুগছেন স্থানীয় কৃষক ও সাধারণ মানুষ।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে যশোরে এক জনসভায় তারেক রহমান জিয়ার খাল পুনঃখননের আশ্বাস দিয়েছিলেন। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সেই প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন ঘটলে খালটি আবারও তার পূর্বের রূপ ফিরে পাবে এবং এ অঞ্চলের কৃষি, পরিবেশ ও অর্থনীতিতে নতুন গতি সঞ্চার করবে।
এ বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ জানান, সংশ্লিষ্ট সকলের সমন্বয়ে খালটি পুনঃখননের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে এবং দ্রুতই এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। আগামী ২৭ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য সফরকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের অংশগ্রহণে খাল পুনরুদ্ধারের কার্যক্রম শুরু করা হবে।
স্থানীয়রা আশা করছেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে খালটি পুনঃখননের উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে কৃষি, পরিবেশ ও জলাবদ্ধতা সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে এবং জিয়ার খাল তার পূর্বের প্রাণ ফিরে পাবে।