শহিদ জয়
ছবি: সংগৃহীত
ভালোবাসার টানে সমাজের সব বাধা ডিঙিয়ে যৌনপল্লীর মেয়ে আখিঁ মনি মুক্তাকে বিয়ে করেছিলেন যশোর সদরের ফতেপুর ইউনিয়নের ঝুমঝুমপুর ঈদগাহ এলাকার বাসিন্দা আসাদুজ্জামান (৪০)। কিন্তু দারিদ্র্য, অসুস্থতা আর অভাবের চাপে সেই স্বপ্নের সংসার বেশিদিন যায়নি। শেষ পর্যন্ত অভিমানে-অপমানে ও ভালোবাসা হারানোর বেদনায় নিজের গলাতেই ব্লেড চালিয়ে আত্মহননের চেষ্টা করেন আসাদুজ্জামান।
সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যার পর যশোর শহরের বাবু বাজার সংলগ্ন যৌন-পল্লীর ভেতরেই এই হৃদয়বিদারক ঘটনা ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় দুই মাস আগে ভালোবেসে বিয়ে করেন আসাদুজ্জামান ও আখিঁ মনি মুক্তা। যশোর শহরতলীর ঝুমঝুমপুর ঈদগাহ এলাকায় নিজ বাড়িতে সংসার শুরু করেন ওই দম্পতি । আসাদুজ্জামান ইজিবাইক চালিয়ে রোজগার করতেন। কিন্তু ব্যবসায় আয়-রোজগার বন্ধ হয়ে গিয়ে সংসারে নেমে আসে করুণ পরিণতি। আর সেই অভাবই ধীরে ধীরে গ্রাস করতে থাকে ভালোবাসার উষ্ণতা।
অভাবের টানাপোড়েন ও দাম্পত্য কলহের জেরে নিজ বাড়িতেই গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন আসাদুজ্জামান। সেদিন স্থানীয়রা টের পেয়ে তাকে উদ্ধার করেন তাকে। এরপর আখিঁ মনি মুক্তা ফের ফিরে যান বাবু বাজারের যৌনপল্লীতে।
সোমবার ইফতারের আগে স্ত্রীকে ফিরিয়ে নিতে সেখানে যান আসাদুজ্জামান। এক খদ্দেরের সঙ্গে কথা বলতে দেখে তাকে বাড়ি ফিরতে অনুরোধ করেন। কিন্তু আখিঁ মনি ফিরতে রাজি না হলে দু’জনের মধ্যে তর্কাতর্কি শুরু হয়। ভালোবাসার মানুষকে ফিরে না পাওয়ার বেদনাতেই একপর্যায়ে নিজের কাছে থাকা একটি ব্লে/ড দিয়ে নিজের গ/লা/য় আ/ঘা/ত করেন তিনি।
র/ক্ত ঝরতে শুরু করলে আখিঁ মনি মুক্তাই গামছা দিয়ে তার গলা পেঁ/চিয়ে দ্রুত যশোর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান।
যশোর জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের ইনচার্জ চিকিৎসক ডা.বিচিত্র মল্লিক জানান, আসাদুজ্জামানের আ/ঘা/ত গু/রু/তর। প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তাকে ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছে। প্রয়োজন হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হতে পারে।
সদর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক বসির আহমেদ বলেন, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বি/রো/ধের জেরে আ/ত্ম/হত্যা/র চেষ্টার ঘটনা শুনেছি।
ভালোবাসার গল্পটি শুরু হয়েছিল সমাজের বাঁধা পেরিয়ে। কিন্তু অভাব আর বাস্তবতার নির্মম চাপে সেই ভালোবাসাই রক্তাক্ত হয়ে উঠলো যৌ/নপ/ল্লীর অ/ন্ধ/কার গলিতে।