প্রজন্ম২৪ ডেস্ক
বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের দর্শনই আমাদের অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় পরিচয়: তথ্যমন্ত্রী
ছবি: সংগৃহীত
তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের দর্শন এমন একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় পরিচয়, যা দেশের সব ভাষা, ধর্ম, সংস্কৃতি, নৃগোষ্ঠী ও জনগোষ্ঠীকে সমানভাবে ধারণ করে। এই দর্শন বাংলাদেশের প্রতিটি নাগরিককে জাতীয় পরিচয়ের অংশ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।
বুধবার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ইউনিভার্সিটি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ইউট্যাব), জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা আয়োজিত ‘শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, কেবল ধর্ম বা ভাষার ভিত্তিতে একটি বহুমাত্রিক রাষ্ট্রকে দীর্ঘমেয়াদে ঐক্যবদ্ধ রাখা সম্ভব নয়। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন থেকে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ পর্যন্ত ইতিহাস সেই বাস্তবতারই প্রতিফলন।
তিনি বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের সূচনালগ্নে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সাহসী নেতৃত্ব ও স্বাধীনতার ঘোষণা যুদ্ধকে সংগঠিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। স্বাধীনতার পর জাতীয় পরিচয়ের প্রশ্নে নতুন বাস্তবতা তৈরি হলে জিয়াউর রহমান নাগরিকভিত্তিক ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’-এর দর্শন উপস্থাপন করেন, যা দেশের সব নাগরিককে সমান মর্যাদায় একটি অভিন্ন জাতীয় পরিচয়ের বন্ধনে আবদ্ধ করেছে।
জহির উদ্দিন স্বপন আরও বলেন, আধুনিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় জাতীয়তাবাদ ভাষা, ধর্ম বা বর্ণের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং নাগরিকদের অভিন্ন স্বার্থ, ভূখণ্ড, সাংবিধানিক অঙ্গীকার এবং যৌথ ভবিষ্যৎ নির্মাণের আকাঙ্ক্ষার ওপর প্রতিষ্ঠিত। বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদও সেই আধুনিক রাষ্ট্রচিন্তারই প্রতিফলন।
তিনি বলেন, কোনো একটি ভাষা বা সংস্কৃতিকে প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে অন্য ভাষা বা সংস্কৃতিকে অস্বীকার করার সুযোগ নেই। বাংলাদেশের সব ভাষা, সংস্কৃতি, ধর্মীয় বিশ্বাস ও নৃগোষ্ঠীর পরিচয়কে সম্মান জানিয়েই বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ বিকশিত হয়েছে এবং জাতীয় ঐক্য ও সংহতির ভিত্তি হিসেবে ভবিষ্যতেও এটি পথনির্দেশক হিসেবে কাজ করবে।
সেমিনারে ইউট্যাব, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি অধ্যাপক মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন সভাপতিত্ব করেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান হামিদ। প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. রইছ উদ্দীন। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ইউট্যাবের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক নাসির আহমাদ।