প্রজন্ম২৪ ডেস্ক
দেশের উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা খাতকে চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রস্তুত করতে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) ‘হায়ার এডুকেশন এক্সিলারেশন অ্যান্ড ট্রান্সফরমেশন (হিট)’ প্রকল্পের আওতায় দেশব্যাপী বৃহৎ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি শুরু হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ডিজিটাল রূপান্তর এবং শিক্ষক-গবেষকদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও আধুনিক প্রযুক্তিতে দক্ষ করে তুলতে নেওয়া এ উদ্যোগের প্রথম কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শেকৃবি)।

সোমবার (২২ জুন) বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারে অনুষ্ঠিত দিনব্যাপী এ কর্মশালার আয়োজন করে বাংলাদেশ রিসার্চ অ্যান্ড এডুকেশন নেটওয়ার্ক (BdREN) ও তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান বিডকম। আয়োজকরা জানান, এটি দেশব্যাপী অনুষ্ঠিতব্য ৭০টি কর্মসূচির প্রথম আয়োজন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল লতিফ। বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. মো. বেলাল হোসেন, ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মো. আবুল বাশার এবং আইসিটি সেলের পরিচালক অধ্যাপক ড. জামিলুর রহমান। কর্মশালার মূল বক্তা ছিলেন বাংলাদেশ রিসার্চ অ্যান্ড এডুকেশন নেটওয়ার্কের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ তাওরীত। এছাড়া হিট প্রকল্পের ডেপুটি প্রজেক্ট ডিরেক্টর অধ্যাপক মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান উপস্থিত ছিলেন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. জামিলুর রহমান উচ্চশিক্ষা ও গবেষণায় ‘এডুরোম’ সংযোগের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, এডুরোমের মাধ্যমে দেশের শিক্ষক, গবেষক ও শিক্ষার্থীরা বিশ্বের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানে নিজেদের প্রাতিষ্ঠানিক ই-মেইল ব্যবহার করে নিরাপদ ওয়াই-ফাই ও উচ্চগতির ইন্টারনেট সুবিধা গ্রহণ করতে পারবেন। এতে আন্তর্জাতিক গবেষণা সহযোগিতা, নেটওয়ার্কিং ও জ্ঞান বিনিময়ের সুযোগ আরও সম্প্রসারিত হবে।
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয় র্যাংকিং সংস্থাগুলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে বৈশ্বিক তথ্যভাণ্ডার থেকে তথ্য সংগ্রহ করে। ফলে বিশ্ব র্যাংকিংয়ে এগিয়ে যেতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর গবেষণা ও তথ্যব্যবস্থাপনাকে আরও সুসংগঠিত ও ডিজিটালভাবে উপস্থাপন করতে হবে।
হিট প্রকল্পের ডেপুটি প্রজেক্ট ডিরেক্টর অধ্যাপক মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান জানান, বিশ্বব্যাংক ও বাংলাদেশ সরকারের যৌথ অর্থায়নে দেশের উচ্চশিক্ষা খাতের মানোন্নয়নে ব্যাপক বিনিয়োগ করা হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর তথ্যপ্রযুক্তি ও ডিজিটাল অবকাঠামো উন্নয়নে বিডকমের সঙ্গে প্রায় ৬০০ কোটি টাকার পণ্য ও সেবা চুক্তি বাস্তবায়নাধীন রয়েছে।
মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে মোহাম্মদ তাওরীত শিক্ষা ও গবেষণায় জেনারেটিভ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, ব্লকচেইন ও বৃহৎ তথ্যভাণ্ডার ব্যবস্থাপনার গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ডিজিটাল সক্ষমতা বৃদ্ধিতে আধুনিক প্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল লতিফ বলেন, বিশ্ব এখন চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের যুগে প্রবেশ করেছে এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার দ্রুত বিস্তৃত হচ্ছে। স্মার্ট কৃষিতে গাছের পুষ্টি ঘাটতি শনাক্তকরণ থেকে শুরু করে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত গ্রহণে এআই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তবে প্রযুক্তির ইতিবাচক ও নেতিবাচক—উভয় দিক রয়েছে। তাই প্রযুক্তিকে বর্জন নয়, বরং দায়িত্বশীল ও দক্ষতার সঙ্গে ব্যবহার করতে হবে।
ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মো. আবুল বাশার বলেন, বর্তমানে শিক্ষার্থীরা গবেষণা ও থিসিস লেখার ক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করছে। শিক্ষকরা যদি এ বিষয়ে দক্ষ না হন, তাহলে মৌলিক গবেষণা ও এআই-নির্ভর কনটেন্টের মধ্যে পার্থক্য নির্ণয় করা কঠিন হয়ে পড়বে।
প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. মো. বেলাল হোসেন বলেন, বাংলাদেশের কৃষি খাত দ্রুত স্মার্ট ও প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। ইন্টারনেট অব থিংস (IoT), জিআইএস, নির্ভুল কৃষি প্রযুক্তি ও ড্রোন প্রযুক্তির ব্যবহার কৃষি ও গবেষণায় নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করছে।
উদ্বোধনী পর্ব শেষে অংশগ্রহণকারী শিক্ষক ও গবেষকদের জন্য পাঁচটি মডিউলে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়। এসব মডিউলে বাংলাদেশ রিসার্চ অ্যান্ড এডুকেশন নেটওয়ার্কের বিভিন্ন সেবা, শিক্ষা ক্ষেত্রে জেনারেটিভ এআইয়ের ব্যবহার, সাইবার নিরাপত্তা, ই-জার্নাল ব্যবহারের কৌশল, গবেষণাকর্মে নকল প্রতিরোধ এবং শিক্ষা ও গবেষণায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহারিক প্রয়োগ বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।
আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেন, এ কর্মসূচির মাধ্যমে দেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো ডিজিটাল সক্ষমতা অর্জনের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা ও গবেষণা ব্যবস্থার সঙ্গে আরও কার্যকরভাবে সংযুক্ত হতে পারবে।