ঢাকা, বাংলাদেশ || সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬
prajanmo24 prajanmo24 prajanmo24 prajanmo24 prajanmo24 prajanmo24
Ad for sale 870 x 80 Position (1)
Position (1)
Ad for sale 870 x 100 Position (1)
Position (1)

বেনাপোলে আনসার সদস্যসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে পণ্য পাচারের মামলা

প্রজন্ম২৪ ডেস্ক

প্রকাশ : রবিবার, ২৮ জুন,২০২৬, ১০:০৫ পিএম
বেনাপোলে আনসার সদস্যসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে পণ্য পাচারের মামলা

prajanma24 ছবি: সংগৃহীত

যশোরের বেনাপোল স্থলবন্দরে কাগজপত্রবিহীন একটি পণ্যবাহী ভারতীয় ট্রাক জব্দ করেছে কর্তৃপক্ষ। এ ঘটনায় বাংলাদেশি ট্রাক ও চালককে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়েছে। একইসঙ্গে বন্দরের আনসার ও বেসরকারি নিরাপত্তা সংস্থার ৯ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত পরিচয় দেখিয়ে ১১ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।
শনিবার (২৭ জুন) বেনাপোল স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ বাদী হয়ে বেনাপোল পোর্ট থানায় মামলাটি করে। মামলাটি করেন বেনাপোল স্থলবন্দরের সহকারী পরিচালক (ট্রাফিক) মো. ওবাইদুল মিয়া। বন্দর ও কাস্টমস সূত্রে জানা যায়, ঝিকরগাছার আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান মেসার্স আরাফ এন্টারপ্রাইজের নামে সরিষার খৈলবাহী একটি ভারতীয় ট্রাক ২৩ জুন রাত ৯টার দিকে বেনাপোল বন্দরে প্রবেশ করে। পরে ২৫ জুন ট্রাকটি ৩৫ নম্বর শেডে খালাসের জন্য যাওয়ার তথ্য দেখিয়ে বের হয়।
অভিযোগ রয়েছে, ভারতীয় ট্রাকটিতে থাকা অবৈধ ৫০ বস্তা দামি শাড়ি, থ্রিপিস, কসমেটিকস পণ্য ৩২ নম্বর ইয়ার্ডে একটি বাংলাদেশি ট্রাকে স্থানান্তর করা হয়। এরপর ভারতীয় ট্রাকটি বিকেল ৫টার দিকে বন্দর কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই ৩১ নম্বর ইয়ার্ডে প্রবেশ করলে সেটি আটক করা হয়। খবর পেয়ে বেনাপোল কাস্টম হাউজের সহকারী কমিশনার অটল গোস্বামীর উপস্থিতিতে ট্রাকটি তল্লাশি করা হয়। পরে ট্রাকটি ট্রান্সশিপমেন্ট ইয়ার্ডে ওজন করলে ঘোষিত ওজনের তুলনায় দুই হাজার ৭৮৪ কেজি পণ্যের ঘাটতি ধরা পড়ে। এসময় ট্রাক থেকে ১৪০ বস্তা সরিষার খৈল ও ৫০টি খালি বস্তা জব্দ করা হয়। ঘটনার পর ভারতীয় ট্রাকচালক পালিয়ে গেলেও বাংলাদেশি ট্রাক ও এর চালককে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পণ্য পাচারের সঙ্গে জড়িত চক্রটি কৌশলে মেসার্স প্রত্যয় ইন্টারন্যাশনাল নামের একটি সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টের নাম ব্যবহার করেছে বলে জানা গেছে। তবে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে এ অভিযোগ স্বীকার করা হয়নি। ঘটনার পর কাস্টমস, বন্দর ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো তদন্ত শুরু করেছে। বেনাপোল স্থলবন্দরের সহকারী পরিচালক কাজী রতন বলেন, ‘সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনায় অভিযুক্তদের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া যায়। অভিযোগ রয়েছে, তারা গেট পাস ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই ছাড়াই ট্রাক চলাচল ও পণ্য অপসারণে সহযোগিতা করেন। পরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ব্যবহৃত বাংলাদেশি ট্রাকটি শনাক্ত করা হয় এবং ট্রাকচালক ও হেলপারকে আটক করা হয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘অপরাধ দমনে বন্দর কর্তৃপক্ষ জিরো টলারেন্স নীতিতে কাজ করছে। কোনো অপরাধীকে ছাড় দেওয়া হবে না। প্রাথমিক তদন্তে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে বন্দরের নিরাপত্তাকর্মী ও ট্রাকচালকসহ সংশ্লিষ্টদের ১১ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। পরবর্তীতে অন্য কারও সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে মামলায় যুক্ত করা হবে।’
বেনাপোল পোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফ হোসেন মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘ঘটনার তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ ও আদালতে অভিযোগপত্র দেওয়া হবে।’
বেনাপোল আমদানি-রপ্তানি সমিতির সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর রহমান জানান, বন্দরে প্রবেশ করা প্রতিটি আমদানিকৃত ট্রাক প্রথমে বিজিবির তল্লাশি, এরপর কাস্টমস ও বন্দর কর্তৃপক্ষের যৌথ ওজন পরীক্ষা এবং সবশেষ উন্নতমানের স্ক্যানিং মেশিনে পরীক্ষা করা হয়। এছাড়া বন্দরের প্রায় ৩৭৫টি সিসিটিভি ক্যামেরার নজরদারি রয়েছে। এত কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যেও অসাধু চক্রের একটি অংশ যোগসাজশ কিংবা নজরদারির ফাঁকে মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে পণ্য প্রবেশ করাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে সরকার বিপুল রাজস্ব হারানোর পাশাপাশি বন্দরের বাণিজ্যিক নিরাপত্তাও হুমকির মুখে পড়ছে।
এদিকে চলতি মাসে কাস্টমসের করা পণ্য পাচারের আগের তিনটি মামলায় এখনো কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। ফলে বৈধ পথে আমদানিকৃত পণ্য পাচার ও অনিয়ম রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন সাধারণ ব্যবসায়ীরা।

ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

Ad for sale 270 x 200 Position (2)
Position (2)